নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
নাইক্ষ্যংছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নজুড়ে বন্ধ ঘোষিত ইটভাটাগুলো আবারও সচল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগসাজশের অভিযোগের মধ্যে দিয়ে। জুলাই বিপ্লবের পর আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ বৈঠকে পরিবেশগত ঝুঁকি ও অনিয়মের কারণে মোট ১২টি ইটভাটা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব ইটভাটা এখনো পুরোপুরি সচল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত প্রকৃত মালিকরা থাকলেও এখন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নিজেদের মালিক পরিচয় দিয়ে ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ দখলে নিয়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা বন্ধ নির্দেশকে কার্যত অকার্যকর করে রেখেছেন।
মাঝে মধ্যে দুই-একটি ইটভাটায় নামকাওয়াস্তে অভিযান চালিয়ে বাহ্যিকভাবে ‘কর্তৃপক্ষ কঠোর’—এমন চিত্র দেখানো হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এগুলো কেবল বৈধতার ঢাল তৈরির চেষ্টা।
ইটভাটা সংশ্লিষ্ট প্রকৃত মালিকদের তালিকা
হায়দার কোম্পানি (HKB)
মিলন মিস্ত্রি (HSB)
সাজু বড়ুয়া (DSB)
ফরিদ কোম্পানি (BBM)
ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন (BHB) — উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা
আবুল কালাম মেম্বার (KRS) — ঘুমধুম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা
খালেদ সরওয়ার হারেজ (KRE) — ঘুমধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি
বাবু (HAZI)
রাজনৈতিক দখলদারিত্বের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, যদিও উপরোক্ত ব্যক্তিরাই প্রকৃত মালিক, বাস্তবে রাজনৈতিক নেতারাই এখন ইটভাটাগুলোর মালিক সেজে নিয়ন্ত্রণ করছেন। শ্রমিক নিয়োগ, কয়লা সরবরাহ, উৎপাদন, বিক্রি-সবকিছুতেই তাদের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয়দের ভাষ্য, “নামমাত্র কিছু অভিযানে ছবি তোলে দেখানো হয়, কিন্তু ইটভাটার আগুন কখনোই নেভে না। প্রশাসন কি জানে না, নাকি দেখেও না দেখার ভান করছে-এটা সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন।”
পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমি ক্ষতি ও ধুলাবালুতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে গেলেও বাস্তবিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
উপজেলা প্রশাসনের সাড়া মেলেনি এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি জানা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহলের দাবি নাইক্ষ্যংছড়ির নাগরিক সমাজ বলছে, জুলাই বিপ্লবের পর নেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়া প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের তদন্ত এবং বন্ধ ঘোষিত ইটভাটাগুলোতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।